লাইফস্টাইল রিপোর্ট: বর্তমান সময়ে ডেটিং শব্দটি তরুণ-তরুণীদের জীবনে বেশ পরিচিত একটি বিষয়। প্রেম, বন্ধুত্ব কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে অনেকেই নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে কিংবা বিনোদনকেন্দ্রে যান। সেখানে গল্প, আড্ডা ও খাবারের মধ্য দিয়ে একে অপরকে জানার চেষ্টা করেন। সাধারণভাবে এটিকেই ডেটিং বলা হয়।

তবে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্নধর্মী কিছু তথ্য। গবেষকদের দাবি, কিছু নারী প্রেম বা সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নয়, বরং বিনামূল্যে খাবার খাওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য ডেটিংয়ে অংশ নেন। গবেষণায় এমন প্রবণতাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা এ ধরনের আচরণকে ‘ফুডি কল’ নামে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ, যেসব ব্যক্তি মূলত বিনামূল্যে খাবার পাওয়ার উদ্দেশ্যে কারও সঙ্গে ডেটিংয়ে যান, তাদের এই শ্রেণিতে ফেলা হয়েছে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে প্রায় ২৩ থেকে ৩৩ শতাংশ স্বীকার করেছেন যে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে তারা শুধুমাত্র বিনামূল্যে খাবার বা অন্য সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ডেটিংয়ে গিয়েছেন। গবেষকদের মতে, এটি সামাজিক ও মানসিক আচরণের একটি বিশেষ দিক, যা আধুনিক সম্পর্কের ধরন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের নারীরা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডেটিং অ্যাপ কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন পুরুষসঙ্গী খুঁজে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করার আগ্রহ দেখান না। বরং প্রয়োজন বা সুবিধা ফুরিয়ে গেলে দ্রুত নতুন সঙ্গীর খোঁজে এগিয়ে যান।

গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ‘ফুডি কল’-এ অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা, ভোগবাদী মানসিকতা এবং সামাজিক স্বীকৃতির প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক আচরণ, অসততা কিংবা সম্পর্ককে ব্যবহার করার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই গবেষণার ফলাফলকে সব নারী বা সব সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে মনে করা উচিত নয়। অধিকাংশ মানুষই আন্তরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আবেগগত সংযোগের ভিত্তিতে ডেটিং করেন। তাই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আচরণকে পুরো সমাজের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের সম্পর্কের ধরনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের গভীরতার চেয়ে তাৎক্ষণিক সুবিধা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে বিশ্বাস, সততা ও পারস্পরিক সম্মানের মতো মূল্যবোধ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে উভয় পক্ষের মধ্যে স্বচ্ছতা, আন্তরিকতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকা জরুরি। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সম্পর্ক ব্যবহার করলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণাটি আধুনিক ডেটিং সংস্কৃতির একটি ভিন্ন দিক সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে সততা, বিশ্বাস ও প্রকৃত উদ্দেশ্যের গুরুত্ব নিয়েও নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করছে।
Leave a Reply